রাজধানীর মধ্যবাড্ডার হোসেন মার্কেটের সম্মেলনকক্ষে বুধবার জাগো নিউজের দিনব্যাপী প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাদেশের জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস থেকে আসা প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে গণমাধ্যমটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল।
তিনি বলেন, যেকোনো সংবাদমাধ্যমের সাফল্যের পেছনে মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার বাইরে থেকে সংবাদ সংগ্রহের মূল দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত থাকে, তাই তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নিয়মিত সংবাদ প্রেরণ অপরিহার্য। কামরুজ্জামান কামাল আরও বলেন, সংবাদকর্মীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি মালিকানাবোধ বা ওনারশিপ তৈরি করতে হবে।
তিনি মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধি এবং প্রধান কার্যালয়ের কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ ও ভিডিও দ্রুত এবং যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারলে তাদের পরিশ্রম সার্থক হবে। প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাগো নিউজকে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে জাগো নিউজের সম্পাদক কে এম জিয়াউল হক প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাগো নিউজের মোট পাঠকের ৮৬ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে এবং বাকি ১৪ শতাংশ পাঠক বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্ত হন। বিদেশি পাঠকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, ভারত, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠক উল্লেখযোগ্য।
আগামী দুই বছরে পাঠকসংখ্যা ও প্রভাব আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সম্পাদক আরও বলেন, বর্তমান সময়ে ভুল তথ্য বা মিসইনফরমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতায় মনোযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমানের পাঠকরা কেবল সংবাদ পড়তে নয়, বরং ভিডিও দেখতে ও শুনতে বেশি আগ্রহী। প্রান্তিক মানুষের সমস্যা ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো আরও বেশি করে তুলে ধরার জন্য প্রতিনিধিদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়। সম্মেলনে সাংবাদিকতার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে একাধিক সেশন পরিচালিত হয়।
তৃণমূল থেকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষ সংবাদদাতা ও রিপোর্টিং বিভাগের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল। সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় নিয়ে বক্তব্য রাখেন সহকারী সম্পাদক ড. হারুন উর রশীদ। এছাড়া অনলাইনে সংবাদের শিরোনাম ও সূচনা লেখার কৌশল নিয়ে বার্তা সম্পাদক মো. মাহবুব আলম রনি এবং স্থানীয় বাণিজ্য থেকে জাতীয় সংবাদ লেখার কৌশল নিয়ে প্রধান প্রতিবেদক ইব্রাহীম হুসাইন অভি আলোচনা করেন।
মফস্বল থেকে ক্রীড়া সাংবাদিকতা এবং মোবাইল সাংবাদিকতার ওপরও বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিভিন্ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শেষভাগে সারাদেশের প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে সাতজন সেরা প্রতিবেদককে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন ইকবাল হোসাইন, জাহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী, এন কে বি নয়ন, রফিক হায়দার, আব্দুল্লাহ আল নোমান, লতিফুল বাশার এবং মনির হোসেন মাহিন।
নেটওয়ার্কিং সেশনে প্রতিনিধিরা তাদের কাজের অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথা তুলে ধরেন। সবশেষে ফটোসেশন ও সম্পাদকের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলন সমাপ্ত হয়।
