রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শাখার দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবু আবরার আলভী এবং প্রচার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অলি আহাদ এবং সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম রনি এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেছেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে এবং ২ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কৃত নেতাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা এবং মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া। রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবু আবরার আলভীকে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিষয়ে সমালোচনার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এই বিষয়ে আবু আবরার আলভী দাবি করেছেন যে, বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জনদুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গা থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান, ১ সেপ্টেম্বর সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি লিখিতভাবে তার জবাবও দিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, তিনি দলের কাছে লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ করা সত্ত্বেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি এই বহিষ্কারের পেছনে রাজনৈতিক অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা গ্রুপিংয়ের প্রভাব থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আরিফুল ইসলামকে মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেফতার হওয়ার পর বহিষ্কার করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক কারবারি, মাদকসেবী এবং জিআর পরোয়ানাভুক্ত মোট ছয়জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
এই অভিযানেই আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাঙ্গামাটির কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন জানিয়েছেন, আরিফুল ইসলাম একটি মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। গ্রেফতারের পর তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই দুই নেতাকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অলি আহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংগঠনের নিয়ম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের এই পদক্ষেপের ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে মাদক সংশ্লিষ্টতার মতো গুরুতর অভিযোগে একজন নেতার গ্রেফতার হওয়া সাংগঠনিক ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলেছে।
বহিষ্কৃত নেতাদের বিরুদ্ধে নেওয়া এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কঠোরতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শাখার এই দুই নেতার বহিষ্কারের মাধ্যমে জেলা কমিটি তাদের সাংগঠনিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বর্তমানে বহিষ্কৃত নেতাদের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ বা সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো আপিল প্রক্রিয়ার সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বহিষ্কারাদেশের কারণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
