দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। বুধবার কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, বদলি এবং কেনাকাটা বা ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর কমিশন এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন চার সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করেছে। এই অনুসন্ধান দলের নেতৃত্ব দেবেন কমিশনের উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালাম। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, কর্মকর্তাদের বদলি সংক্রান্ত অনিয়ম এবং সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতির যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করাই এই অনুসন্ধান দলের প্রধান কাজ। সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই চার সদস্যের এই দলটি কাজ শুরু করেছে। তদন্তের পরিধি এবং অভিযোগের বিস্তারিত দিকগুলো অনুসন্ধান দল তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে যাচাই করবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা এই তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি কেনাকাটা বা প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় সাধারণত যে ধরনের নিয়ম অনুসরণ করার কথা, সেখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখবে অনুসন্ধান দলটি।
এছাড়া নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তার সাথে কারা জড়িত এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করবে কমিশন। দুর্নীতি দমন কমিশনের এই তদন্ত কার্যক্রমটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। অনুসন্ধান দল তাদের কার্যক্রম শেষ করার পর একটি প্রতিবেদন কমিশনের কাছে জমা দেবে।
সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে অনুসন্ধান দলটি প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই ধরনের তদন্ত নিয়মিত পরিচালনা করে থাকে দুর্নীতি দমন কমিশন। মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তদন্তের ফলাফল কী হয়, সেদিকে এখন সবার নজর রয়েছে।
তদন্তের প্রতিটি ধাপ আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে কমিশন। কোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত হয়েই এই অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দুর্নীতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে এই তদন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নথিপত্র ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। অনুসন্ধান দল তাদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত কমিশনকে অবহিত করবে। সরকারি অর্থ ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই তদন্তের মূল লক্ষ্য। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরদারিতে রয়েছে। নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
