বাংলাদেশের ব্যবসায়ী এবং প্রকৃত পর্যটকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত ভিসা বন্ড ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার বঙ্গভবনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি ভবিষ্যতে কৃষি খাতে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জ্বালানি খাতের উন্নয়নে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের বিনিয়োগ এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি এই খাতে বিনিয়োগের পরিধি আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
এসব খাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের মাধ্যমে দুই দেশই উপকৃত হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা প্রয়োজন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাতকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রপতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্বাসী বলে রাষ্ট্রপতি জানান।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান এবং সমতার নীতিকে বাংলাদেশ সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তবে উভয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এই চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে তার দেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এই সৌজন্য সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতির সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে এই বৈঠকটি শেষ হয়।
