নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন যে বাংলাদেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের যে প্রত্যাশা রয়েছে এবং যে আকাঙ্ক্ষায় দেশের মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই কাঙ্ক্ষিত দেশ অচিরেই অর্জিত হবে। শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জামালপুর সমিতি এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল। মাহমুদুর রহমান মান্না তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং নেতৃত্বের গুণাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। একটি সত্যিকারের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য এখন যোগ্য এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, যে রাজনৈতিক নেতা সমগ্র পরিস্থিতি অনুধাবন করে দল ও দেশ পরিচালনার সক্ষমতা রাখেন, বর্তমান সময়ে দেশে এমন নেতারই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, একটি শুভকর এবং সবার জন্য বসবাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে হলে সঠিক নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। সভায় তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক আচরণের একটি উদাহরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, একবার একটি সভায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি উপস্থিত সবাইকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান এবং এক পর্যায়ে সভা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মান্না মন্তব্য করেন যে, রাজনীতিতে বিনয়ের কোনো বিকল্প নেই এবং যিনি বিনয়ী নন, তিনি শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে ফাঁকা বুলি বা চাপাবাজির চেয়ে নিজের যোগ্যতা এবং জ্ঞান দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা থাকা জরুরি। আবদুস সালাম তালুকদারকে তিনি এমন একজন যোগ্য এবং জ্ঞানী মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন, যিনি দেশের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, অনেক বড় লড়াইয়ের পর দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে।
এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের মানুষ যে স্বপ্নের কথা ভেবেছে, সেই স্বপ্ন পূরণ হবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম।
এছাড়া আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামালপুর সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার। বক্তারা ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন এবং দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন একজন আপসহীন নেতা, যিনি সবসময় দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করে গেছেন।
তার আদর্শ বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। সভার আয়োজক জামালপুর সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং জামালপুর সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহনশীলতা থাকা প্রয়োজন। মাহমুদুর রহমান মান্না তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে পুনরায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে এবং একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা।
