ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার পর নিজের গলায় আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক ব্যক্তি। বুধবার দুপুরে উপজেলার কুল্লাবর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত স্বামী জসিম উদ্দিন (৬৫) এবং তার স্ত্রী পারুল বেগম (৫০) বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জসিম উদ্দিন এবং পারুল বেগমের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। জসিম উদ্দিনের সন্দেহ ছিল যে তার আপন বড় ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে তার স্ত্রী পারুল বেগমের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সন্দেহ থেকে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও কথা-কাটাকাটি হতো।
বুধবার দুপুরেও তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জসিম উদ্দিন উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্ত্রী পারুল বেগমের গলায় আঘাত করেন। এতে পারুল বেগম গুরুতর আহত হন। স্ত্রীকে আঘাত করার পরপরই জসিম উদ্দিন একই অস্ত্র ব্যবহার করে নিজের গলায় পোঁচ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
ঘটনার সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুজাউদ্দিন জানিয়েছেন, ভালুকার কুল্লাবর গ্রাম থেকে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বুধবার দুপুরের দিকে কুল্লাবর গ্রামে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পারিবারিক কলহের জেরে এই ধরনের সহিংস ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সময় বাড়িতে অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না বা কী পরিস্থিতিতে এই ঝগড়া চরম আকার ধারণ করেছিল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত কারণ বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। আহতদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল কি না বা তাদের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকায় শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ বিরাজ করছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন সহিংসতা রোধে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য কোনো পক্ষ বা প্ররোচনার কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য কাজ করছে।
আহত স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই সুস্থতার জন্য চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অভিযোগ দায়েরের ওপর নির্ভর করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
