ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আলালপুর এলাকায় বুধবার সন্ধ্যায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের হোসেন আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক এবং ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর গ্রামের মো. তোফাজ্জল হোসেন, যার বয়স ৬০ বছর।
এছাড়া নিহতদের মধ্যে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী আরও একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি বাস যাত্রী নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসটি আলালপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকা থেকে হালুয়াঘাটগামী ইমাম পরিবহনের অপর একটি বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় শ্যামলী বাংলা পরিবহনের যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আল আমিন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসা ছয়জনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করায় অনেকের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে এবং বাস দুটির চালক ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর বাস দুটির চালক ও হেলপাররা পালিয়ে গেছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
