চট্টগ্রামের হালিশহর থানাধীন দবিরখাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ১১ হাজার কেজি বা ১১ টন রাসায়নিক সারসহ তিনজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। এই অভিযানের সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর সকালে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্টগার্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ২ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টার দিকে হালিশহর থানাধীন দবিরখাল এলাকায় এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড বেইস চট্টগ্রামের একটি দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানের সময় দেখা যায়, পাচারকারীরা একটি ট্রাক থেকে ফিশিং বোটে সার স্থানান্তর করছে।
এই সারগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে তিন পাচারকারীকে আটক করেন। অভিযানে জব্দ করা সারের পরিমাণ ২২০ বস্তা, যার ওজন ১১ হাজার কেজি। কোস্টগার্ডের ভাষ্যমতে, জব্দ করা এই সারের বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পাচারকাজে ব্যবহৃত ট্রাকটিও কোস্টগার্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আটককৃত ব্যক্তিরা, জব্দ করা সার এবং ট্রাক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হালিশহর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, চোরাচালান রোধে কোস্টগার্ডের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, দেশের উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে কোস্টগার্ড নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
দবিরখাল এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানটি সেই ধারাবাহিক কার্যক্রমেরই অংশ। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জব্দ করা সারগুলো কী ধরনের রাসায়নিক সার এবং সেগুলো কোন উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। পাচারকারীরা এই সারগুলো মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ফিশিং বোটটি ব্যবহার করছিল, সেটিও জব্দ করা হয়েছে কি না বা সেটির মালিক কে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমুদ্রপথে চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে। হালিশহর থানায় হস্তান্তর করার পর পুলিশ আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করবে। এই ঘটনার মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান চক্রের সক্রিয়তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। কোস্টগার্ডের এই সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ সার পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত সার পাচার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কোস্টগার্ডের এই নিয়মিত টহল ও নজরদারি চোরাচালানকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আটককৃত তিনজনের পরিচয় এবং তাদের পূর্বের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
জব্দ করা সার এবং ট্রাকের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান করবেন। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, দেশের সম্পদ রক্ষা এবং চোরাচালান নির্মূলে কোস্টগার্ডের প্রতিটি সদস্য বদ্ধপরিকর। এই অভিযানের ফলে পাচারকারী চক্রের একটি বড় চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে।
