মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভার থেকে শমশেরনগর টি গার্ডেন মৌজার তথ্য গত পাঁচ মাস ধরে উধাও হয়ে আছে। এই কারিগরি ত্রুটির কারণে ওই মৌজার আওতাধীন জমির মালিকরা ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত এপ্রিল মাস থেকে এই সমস্যা শুরু হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
সার্ভারে মৌজার তথ্য না থাকায় জমি খারিজ, খাজনা প্রদান এবং ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সার্ভারে মৌজার তথ্য প্রদর্শিত না হওয়ায় তহশিলদাররা খারিজের প্রতিবেদন তৈরি করতে পারছেন না। এর ফলে গত পাঁচ মাস ধরে ওই মৌজার খারিজ শুনানি বন্ধ রয়েছে।
ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার এবং মুহুরী খালেদ আহমেদ জানান, সার্ভারে মৌজা না থাকায় দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই সমস্যার কারণে সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের পাশাপাশি পেশাজীবীরাও বিপাকে পড়েছেন। মৌলভীবাজার জজ আদালতের আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমান জানান, চার মাস আগে তিনি এই মৌজায় কিছু জমি বিক্রি করেছেন, কিন্তু সার্ভারে তথ্য না থাকায় ক্রেতাকে জমির খারিজ সম্পন্ন করে দিতে পারছেন না।
তিনি নিয়মিত উপজেলা ভূমি অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা জানিয়েছেন, জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসন এবং খাজনা পরিশোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে না পারায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিয়াজ মাহমুদ এই ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তিনি জানান, ভূমি সার্ভারটি সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে এই কারিগরি ত্রুটি সমাধানের কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা ভূমি অফিস থেকে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরও জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে মন্ত্রণালয় এই সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং সার্ভারটি পুনরায় সচল হবে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঘোষণা না করায় কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় সার্ভারে এই ত্রুটি কেন দেখা দিয়েছে এবং কেন তা পাঁচ মাস ধরে ঝুলে আছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সার্ভারে মৌজা না থাকার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের আইটি শাখার নজরে আনা হয়েছে। শমশেরনগর টি গার্ডেন মৌজার জমির মালিকরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভূমি সেবা ডিজিটাল হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষ সহজেই অনলাইনে খাজনা প্রদান ও খারিজের আবেদন করতে পারতেন।
কিন্তু সার্ভারে মৌজা উধাও হয়ে যাওয়ায় সেই ডিজিটাল সেবার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কমলগঞ্জের শমশেরনগর এলাকার বাসিন্দারা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও এই ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সার্ভার আপডেট বা কারিগরি ত্রুটি সংশোধন না করলে জমির মালিকদের আর্থিক ও আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে।
