চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামের সুরেজ মাস্টারের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে তিন ভাইয়ের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ঘটনার সময় পলাশ কান্তি নাথ, উত্তম কুমার নাথ এবং অর্জুন কুমার নাথ নামের তিন ভাইয়ের পরিবারগুলো এই অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তিন ভাইয়ের বসতঘরগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া তাদের পাশের বসতঘরের মালিক দুলাল কান্তি নাথের ঘরও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আসবাবপত্রসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ওই বাড়ির বাসিন্দা দুলাল কান্তি নাথ জানান, সন্ধ্যার পর হঠাৎ বাড়ির একটি ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন দ্রুত আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার সময় ঘরগুলোতে কেউ ছিলেন না, যার ফলে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় লোকজন প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত উত্তম কুমার নাথের স্ত্রী চন্দনা রানি দেবী বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের ঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, তখন ঘরে কেউ ছিলেন না এবং আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা থাকেনি। তবে তার ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, আগুন লাগার ঘটনা দেখে তার স্বামী উত্তম কুমার নাথ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে তাদের কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি ভাঙা রাস্তা, সরু রাস্তা এবং ডিশ লাইনের বাধা হয়ে দাঁড়ানো।
স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম আরও জানান, ওই বাড়িতে মোট ১০ থেকে ১৫টি বসত ঘর ছিল। অগ্নিকাণ্ডে তিন পরিবারের ঘরগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে হয়ে গেছে। প্রাথমিক তদন্তের পর ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, বৈদ্যুতিক সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
এই অগ্নিকাণ্ডে তিন ভাইয়ের পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছে এবং তাদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে গেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় এবং সরকারি ফায়ার সার্ভিস প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
