বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল জানিয়েছেন যে, রাজনীতিতে তার কোনো ব্যক্তিগত প্রত্যাশা বা মন্ত্রী-এমপি হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। তিনি বলেন, রাজনীতি করার মূল উদ্দেশ্য হলো দলের আদর্শ বাস্তবায়ন করা এবং দল যদি তাকে কোনো দায়িত্ব প্রদান করে, তবে তিনি তা পালন করবেন। অন্যথায় কোনো পদ না পেলেও তার কোনো আক্ষেপ থাকবে না।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা বা ক্ষমতার অপব্যবহারের চিন্তা করেননি বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, রাজনীতিতে পদ বা ক্ষমতার চেয়ে দলের প্রতি আনুগত্য এবং আদর্শের ওপর অটল থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা মন্ত্রী হয়ে লুটপাট করেছেন বা সুইস ব্যাংকে টাকা জমা করেছেন, তাদের মতো কোনো মানসিকতা তার নেই।
তিনি বর্তমানে যেভাবে জীবনযাপন করছেন, ভবিষ্যতে কোনো দায়িত্ব পেলেও তার জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আসবে না। রাজনৈতিক জীবনের প্রতিকূলতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল জানান, তার বিরুদ্ধে ৪৫১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি জানান, যখন তার মামলার সংখ্যা ৩৬৫ হয়েছিল, তখন তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার গারফিল্ড সোবার্সের টেস্টে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
পরবর্তীতে মামলার সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেলে তিনি ব্রায়ান লারার সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডের সঙ্গে তা তুলনা করেন। এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সময় তাকে দিনের পর দিন কারাগারে কাটাতে হয়েছে এবং জামিন পাওয়ার পর জেলগেট থেকেই পুনরায় নতুন মামলায় গ্রেফতার হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি জানান, গত ১৫ বছর তার স্ত্রী ও কন্যা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন।
তার আইনজীবীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই তার মামলা পরিচালনা করেছেন, যার জন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, এক সময় তিনি ধরে নিয়েছিলেন যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার জীবন হয়তো কারাগারেই শেষ হবে। তবে তিনি অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস করেননি এবং কোনো অপশক্তির সঙ্গে সমঝোতায় যাননি।
পুলিশি নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে তাকে এবং তার সহযোদ্ধাদের ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের দেওয়া একটি ডিগ্রির প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে পুলিশের হামলার কথা উল্লেখ করেন। সেই ঘটনায় তাকে শার্ট ছিঁড়ে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
এছাড়া রিমান্ডে থাকাকালীন ডিবি কার্যালয়ে অমানবিক পরিবেশে তাকে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাকে ড্রাগ ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতে হয়েছে। তিনি জানান, গভীর রাতে কারাগার পরিবর্তনের সময় তাকে গুম করে ফেলার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তবে সাংবাদিকরা মোটরসাইকেলে করে তাদের ভ্যানের পেছনে অনুসরণ করায় তারা কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিলেন যে, অন্তত জাতি তাদের পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারবে।
তিনি বলেন, জেল-জুলুম বা নির্যাতনের চেয়ে দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশ্নগুলো তাকে কষ্ট দেয় না, কারণ তার মনে কোনো পদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নেই। তিনি মনে করেন, রাজনীতিতে পদ পাওয়ার চেয়ে দলের আদর্শের প্রতি অবিচল থাকাটাই বড় অর্জন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, দলের প্রয়োজনে তিনি যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতে দল তাকে যে দায়িত্বই দিক না কেন, তিনি তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন।
তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তাকে আরও বেশি আপসহীন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
