মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পেয়ারপুর গ্রামে ইতালি প্রবাসী রাজ্জাক মোল্লার বাড়িতে শুক্রবার ভোররাতে এক ভয়াবহ হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণে অন্তত চারজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং ঘটনাস্থল থেকে সালাউদ্দিন গাজী নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক সালাউদ্দিন গাজী প্রবাসী রাজ্জাক মোল্লার খালাতো ভাই এবং তিনি ওই বাড়ির পাশের বাড়িতেই বসবাস করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী রাজ্জাক মোল্লা বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন এবং তার বাড়িতে কেউ বসবাস করেন না। শুক্রবার ভোররাতে হঠাৎ বিকট শব্দে ওই বাড়ির একটি টিনশেড ঘরের বারান্দার কক্ষে বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরের টিনের ছাউনি ও বেড়ার কিছু অংশ উড়ে যায়।
বিকট শব্দের কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরপরই তারা ঘটনাস্থলে ধোঁয়া দেখতে পান এবং এলাকাটি কেঁপে ওঠে। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় আহত চারজনের নাম মো. সিদ্দিক, আহাদ গাজী, নয়ন গাজী ও রাব্বী আকন।
আহতরা সবাই পেয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আহত এই চারজন ব্যক্তি এলাকায় হাতবোমা তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচিত। তবে গ্রেপ্তারের ভয়ে আহত ব্যক্তিরা এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাননি বলে জানা গেছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, প্রবাসী রাজ্জাক মোল্লার ওই বাড়িতে গোপনে হাতবোমা তৈরির কাজ চলছিল এবং সেই সময় অসাবধানতাবশত বিস্ফোরণটি ঘটে।
ঘটনার খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আলামত সংগ্রহ করে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। আটক সালাউদ্দিন গাজীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পেয়ারপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই বাড়িটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার ও খাসজমিতে ঘর তোলা নিয়ে এলাকায় দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী রাজ্জাক মোল্লা ও জাকির মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে এই বিরোধের জেরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের ধারণা, এই বিরোধের জের ধরেই হয়তো বাড়িতে বোমা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এই রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে বিস্ফোরণের সরাসরি কোনো যোগসূত্রের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছেন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিস্ফোরণের পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। আহতদের অবস্থান শনাক্ত করার জন্যও পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
