বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন যে, মাদক ব্যবসায়ী এবং ছিনতাইকারীদের দীর্ঘমেয়াদে আটক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হলেও আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা সম্ভব হয় না।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার শহর, আমার দেশ-পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আইনের ফাঁকফোকরের কারণে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির জানান, পুলিশ প্রতিটি মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘমেয়াদে আটক রাখা সম্ভব হচ্ছে না, যা অপরাধীদের পুনরায় অপরাধের পথে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে সুযোগ করে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে এবং ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য নানা নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনেক সময় এই মাদকদ্রব্যগুলোকে এনার্জি ট্যাবলেট বা অন্য কোনো আকর্ষণীয় নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আইজিপি বলেন, আমাদের সন্তানদের এই বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
মাদকাসক্তির ভয়াবহতা তুলে ধরে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, একজন সন্তান মাদকে জড়িয়ে পড়লে শুধু তার নিজের জীবনই নষ্ট হয় না, বরং পুরো পরিবারকে তার খেসারত দিতে হয়। তিনি পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সময় এমন ঘটনাও দেখেছেন, যেখানে মাদকের টাকা না দেওয়ায় সন্তান নিজের বাবাকেই মারধর করে আহত করেছে।**
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফ্যাকির বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সংখ্যা দেশের জনসংখ্যার তুলনায় খুবই কম। তিনি জানান, প্রায় ১০০০ মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এই কারণে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।
আইজিপি জানান, পুলিশকে জনবান্ধব এবং জনগণমুখী পুলিশিং করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশিং হবে পিপল ওরিয়েন্টেড এবং জনগণের প্রতি আমরা পুলিশ হবে জনবান্ধব। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। তিনি বলেন, পুলিশ যদি কাজ করতে না পারে, তবে সমাজে কী ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে তা আমরা দেখেছি।
পরিবেশ দূষণ কমাতে ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ কমাতে বেশি করে গাছ লাগানো এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন আইজিপি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আইজিপি আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, বিদেশে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের রাস্তা পারাপার ও রাস্তা ব্যবহারের নিয়ম শেখানো হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশেও শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকে এসব বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘আমার শহর, আমার দেশ-পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ কর্মসূচিকে সরকারের পরিকল্পনার অংশ উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পুলিশ পুলিশ এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
