রাজধানীর মতিঝিল থানাধীন আরামবাগ মোড়ে অটোরিকশা উল্টে মো. সাইফুল ইসলাম (৪৫) ও তার মেয়ে সাবিনা জান্নাত মানহা (১১) আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহত সাইফুল ইসলাম তার মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে এই পরিস্থিতির শিকার হন। দুর্ঘটনার পরপরই তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত সাবিনা জান্নাত মানহা বেইলি রোডের সিদ্ধেশ্বরী গার্লস হাই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন সকালে সাইফুল ইসলাম তার মেয়েকে নিয়ে ওয়ারীর স্বামীবাগ এলাকা থেকে অটোরিকশায় করে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে আরামবাগ মোড় এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশাটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।
এতে অটোরিকশায় থাকা বাবা ও মেয়ে দুজনেই আঘাত পান। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মাইনুল হাসান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, নিয়মিত যাতায়াতের অংশ হিসেবেই তারা স্কুলে যাচ্ছিলেন, কিন্তু অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক এই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মতিঝিলের আরামবাগ মোড়ে অটোরিকশা উল্টে বাবা ও মেয়ের আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাদের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বাবা ও মেয়ে কেউই গুরুতরভাবে আহত হননি।
তাদের আঘাতগুলো প্রাথমিক পর্যায়ের। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাদের রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের চলাচল নিয়মিত বিষয়। মতিঝিল ও আরামবাগ এলাকা অত্যন্ত জনবহুল হওয়ায় সেখানে সবসময় যানবাহনের চাপ থাকে।
অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা চালকের অসতর্কতার কারণে ঘটে থাকে। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় অটোরিকশাটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আহত শিক্ষার্থী ও তার বাবার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন তাদের স্বজনরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন। চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন। কোনো বড় ধরনের জটিলতা না থাকায় তাদের দ্রুতই ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজধানীর সড়কে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তবে অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহনের নিরাপত্তা ও চালকদের দক্ষতা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে।
এই দুর্ঘটনার পর আহতদের স্বজনরা দ্রুত তাদের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তাদের নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, তাদের আঘাতগুলো গুরুতর না হওয়ায় ভয়ের কোনো কারণ নেই। যথাযথ বিশ্রামের মাধ্যমে তারা দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
