মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ৩২৮ বস্তা সার জব্দ করেছে। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে উপজেলার ২ নম্বর আমলসার ইউনিয়নের আমলসার পূর্বপাড়া গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে স্থানীয় দুই ব্যক্তির গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ এই সার উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে নয়ন জোয়ার্দার নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২৩ বস্তা এবং শহীদ জোয়ার্দার নামক অপর এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০৫ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শহীদ জোয়ার্দারের কাছে সার কিনতে গেলে তিনি প্রায়ই সার নেই বলে জানিয়ে দিতেন।
তবে বাড়তি দাম দিলে তিনি মজুত রাখা সার বিক্রি করতেন। কৃষকদের এই অভিযোগের ভিত্তিতেই উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন জানান, অবৈধভাবে সার মজুত করার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকৃত সারের পরিমাণ এবং মজুতকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং সারের কৃত্রিম সংকট রোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কৃষি উপকরণ হিসেবে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দিতে কৃষি বিভাগ সজাগ রয়েছে। জব্দকৃত সারের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এই অভিযান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
অনেকে মনে করছেন, সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির ফলে তারা সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারছিলেন না, যা ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। প্রশাসন এই অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মজুতদারদের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সার ডিলার বা খুচরা বিক্রেতাদের জন্য সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সার সংরক্ষণ ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।
কেউ যদি সেই নিয়ম অমান্য করে অবৈধভাবে সার মজুত করে বাজারে সংকট তৈরি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে এলাকায় সার বিক্রির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা। উদ্ধারকৃত সারগুলো সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।
বর্তমানে জব্দকৃত সারগুলো প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
