মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামের কানাবিল মাঠে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয় কৃষকরা মাঠের ধানখেতে ওই ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ওই ব্যক্তি সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারটি চুরি করার উদ্দেশ্যে খুঁটিতে উঠেছিলেন।
ট্রান্সফরমারটি খোলার সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মরদেহটি ধানখেতে পড়ে ছিল। স্থানীয় কৃষকরা সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান। খবর পাওয়ার পর মহম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য কাজ করছে। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা গ্রামীণ এলাকায় সেচ ব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। সেচ পাম্পের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফরমারগুলো প্রায়ই চোরদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এই ধরনের চুরি শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণই নয়, বরং এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এবং উচ্চ ভোল্টেজের কারণে এই ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে।
স্থানীয় পর্যায়ে এই ধরনের ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে এই ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। বর্তমানে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মাঠের সেচ পাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কৃষকদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।
ট্রান্সফরমার চুরির ফলে কৃষিকাজে বিঘ্ন ঘটে এবং সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। মহম্মদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। নিহতের পরিচয় পাওয়া গেলে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তির উপস্থিতির বিষয়েও অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে মহম্মদপুর থানা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
