ভোলার দৌলতখান উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া একটি পিস্তলসহ মো. নাহিদ নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর ভোরের দিকে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত মো. নাহিদ চরপাতা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীবাড়ির আব্দুল মন্নান কাজীর ছেলে।
তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দৌলতখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাকিব হাসান এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে নাহিদের কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে এবং তার বসতঘর থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি চায়না টাইপ ৫৪ পিস্তল বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, এই পিস্তলটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুট করা হয়েছিল। উদ্ধার করা পিস্তলটির নম্বর যাচাই করার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হবে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তথ্য পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে যে অস্ত্রটি কোন বাহিনীর কাছ থেকে লুট করা হয়েছিল।
এই ঘটনায় নাহিদের বিরুদ্ধে দৌলতখান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই নাহিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। নাহিদকে আটকের সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে পিস্তলটি উদ্ধার করে। স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই অস্ত্রটি কীভাবে তার কাছে এল এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা পরিষ্কার হবে।
বর্তমানে নাহিদ পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দৌলতখান থানা পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত পিস্তলটি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। নাহিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।
ঘটনার দিন ভোরে পুলিশ সদস্যরা তার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে অভিযানটি পরিচালনা করেন। নাহিদকে গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ড মঞ্জুর হলে তাকে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হবে। এই অস্ত্রটি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে পুলিশ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি বর্তমানে পুলিশের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নাহিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, তারা কেবল অপরাধের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হলে রিমান্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে আদালত।
