সরাসরি
বাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাববাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব
National মিনিট পড়া
|১০০%|

বয়স্ক মা-বাবার একগুঁয়ে আচরণ ও সন্তানের করণীয়

বয়স্ক মা-বাবার একগুঁয়ে আচরণ ও সন্তানের করণীয়
বয়স্ক মা-বাবার একগুঁয়ে আচরণ ও সন্তানের করণীয় — বাংলা ধ্বনি

বয়স্ক মা-বাবার স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিয়ে অনেক সন্তানই বর্তমানে উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে কর্মজীবন থেকে অবসরের পর মা-বাবার রুটিনে যে পরিবর্তন আসে, তা তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স্ক মা-বাবারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে চান না, চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করেন কিংবা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন চালিয়ে যান।

সন্তানরা যখন তাদের সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে পরামর্শ দিতে যান, তখন অনেক মা-বাবাই তা ভালোভাবে গ্রহণ করেন না। বরং তারা বিষয়টিকে নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেন এবং অনেক সময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এই পরিস্থিতি কেবল নির্দিষ্ট কোনো পরিবারের নয়, বরং পঞ্চাশোর্ধ্ব মা-বাবা রয়েছেন এমন অনেক পরিবারেই এই চিত্র দেখা যায়।

কেউ কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ অমান্য করে মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণ করেন, আবার কেউ কেউ শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও ব্যায়াম বা হাঁটাচলা করতে অনীহা প্রকাশ করেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মা-বাবা অযৌক্তিক আর্থিক লেনদেন বা অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়িয়ে পড়ছেন, যা নিয়ে সন্তানরা উদ্বেগ প্রকাশ করলে তারা তা শুনতে রাজি হন না।

সন্তানেরা যখন তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে মা-বাবাকে সঠিক পথ দেখানোর চেষ্টা করেন, তখন অনেক মা-বাবা বিষয়টিকে তাদের কর্তৃত্বের ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে সন্তানরা মা-বাবার নির্দেশ মেনে বড় হয়েছেন, কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টে যাওয়ায় মা-বাবার পক্ষে সন্তানের পরামর্শ গ্রহণ করা মানসিকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে।

তারা সন্তানকে এখনো ছোট মনে করেন এবং তাদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিতে চান না। এই সমস্যা কেবল আমাদের সমাজেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে এটি একটি আলোচিত বিষয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বয়স্ক মা-বাবার এই একগুঁয়ে আচরণের পেছনে মূলত কিছু গভীর ভয় ও অস্থিরতা কাজ করে।

তারা নিজেদের চেনা পরিবেশের পরিবর্তন, শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং জীবনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ে ভীত থাকেন। যেকোনো ধরনের পরামর্শকে তারা নিজেদের নাজুক অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখেন। এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সন্তানদের ধৈর্য ও কৌশলী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মা-বাবার আস্থা অর্জন করা এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ।

সরাসরি নির্দেশ না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তাদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য কোনো সদস্য বা আত্মীয়, যাদের কথা মা-বাবা গুরুত্ব দেন, তাদের মাধ্যমেও বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব। এছাড়া প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক সঠিক তথ্য তাদের সামনে তুলে ধরা যেতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে যে সমাধান পাওয়া যাবে, তা নয়।

অনেক সময় সন্তানের ইতিবাচক পরামর্শেও মা-বাবা বিরক্ত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝে থেমে যাওয়া এবং তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি, যদি না তা সরাসরি কোনো বড় ঝুঁকির কারণ হয়। উন্নত বিশ্বে এই ধরনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিরসনে পেশাদার কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে সেই সুযোগ সীমিত হওয়ায় সন্তানকেই অনেক ক্ষেত্রে মা-বাবার কাউন্সেলর হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হয়।

মা-বাবার প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তাদের মানসিক অবস্থা অনুধাবন করাই এই জটিলতা সমাধানের প্রধান উপায়। সন্তানের দায়িত্ব হলো ধৈর্য ধরে তাদের পাশে থাকা এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা, যাতে তারা নিজেদের অসহায় মনে না করেন। পারস্পরিক আলোচনার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হতে পারে।

মা-বাবার প্রতি এই সংবেদনশীল আচরণই তাদের শেষ বয়সে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT
মো. কামরুজ্জামান তথ্যাদি সম্পাদকীয় যাচাইকৃত

বাংলা ধ্বনি নিউজরুমের নিবন্ধিত সাংবাদিক। তথ্য অনুসন্ধান, সামাজিক সচেতনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বাংলা ধ্বনি নিউজরুম বিশেষ বিশ্লেষণ

এই প্রতিবেদনটি বাংলা ধ্বনি নিজস্ব সম্পাদকীয় পরিষদ কর্তৃক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যাচাইকরণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটির ধারাবাহিক আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম
পাঠকদের প্রতিক্রিয়া
পরিবেশনায়: মো. কামরুজ্জামান© 2026 Bangla Dhwani (বাংলা ধ্বনি)
সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ খবর

আরও পড়ুন

/ ১৫