বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন যে সরকার দীর্ঘ ৪২ বছর পর ১৯৮৪ সালের বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা সংশোধন করে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এই তথ্য জানান। নতুন এই বিধিমালাটি মূলত বিনিয়োগবান্ধব করার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি করা হচ্ছে।
সভায় মন্ত্রী বলেন যে বর্তমান সরকার বেসামরিক বিমান খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তাই নতুন বিধিমালাটি অবশ্যই ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য সহায়ক হতে হবে। তিনি এয়ারলাইন্স খাতের প্রতিনিধিদের এই প্রক্রিয়ায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। মন্ত্রী আরও জানান যে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে।
বিমানের জটিল যন্ত্রাংশ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে সরকার কাজ করছে। এছাড়া কেপটাউন কনভেনশনের শর্তাবলী অনুসরণ করে বিমান-সম্পর্কিত সম্পদের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও লিজিংয়ের অধিকার সুরক্ষার জন্য ইররিভোকেবল ডিরেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড এক্সপোর্ট রিকোয়েস্ট অথরাইজেশন বা আইডিইআরএ সংক্রান্ত বিধি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমানবন্দরের ভৌত অবকাঠামোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মন্ত্রী জানান যে এখন থেকে প্রতি তিন মাস অন্তর বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন ও মহড়া আয়োজন করা হবে। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত আরও বলেন যে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে সরকার আন্তর্জাতিক মানের একটি মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল বা এমআরও ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে নতুন বিমানবন্দর স্থাপন ও বিদ্যমান বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সভায় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। নতুন বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিভিন্ন ধারা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা সভায় উপস্থিত থেকে নতুন বিধিমালা সম্পর্কে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
১৯৮৪ সালের পর দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় বর্তমান সময়ের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই বিধিমালা সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল বলে সভায় আলোচনা করা হয়। সরকার আশা করছে যে নতুন এই বিধিমালা কার্যকর হলে দেশের এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং যাত্রীসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
