আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে সরকার মোট ১২ জন শিক্ষককে গুণী শিক্ষক সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী এই সম্মাননা দেওয়া হবে। সম্মাননা প্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে দুই লাখ টাকা, একটি ক্রেস্ট এবং একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট সাতটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই সম্মাননা দেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে সাধারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন এবং ইবতেদায়ি মাদরাসার একজনসহ মোট দুজন শিক্ষককে এই সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হবে। মাধ্যমিক স্তরে সাধারণ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা থেকে মোট তিনজন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে।
একইভাবে কলেজ স্তরেও সাধারণ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা থেকে তিনজন শিক্ষককে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। এছাড়া সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে একজন, মেডিকেল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন এবং প্রকৌশল ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন করে শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে।
তবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি চাইলে বিশেষ প্রয়োজনে সম্মাননার স্তর ও সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারবে। গুণী শিক্ষক বাছাইয়ের জন্য সরকার পাঁচটি পৃথক কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা করেছে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের বাছাই করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করবে। মাধ্যমিক ও কলেজ স্তরের শিক্ষকদের বাছাইয়ের জন্য ১৩ সদস্যের কমিটি, মাদরাসা স্তরের জন্য নয় সদস্যের কমিটি, কারিগরি স্তরের জন্য ১২ সদস্যের কমিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে।
এই কমিটিগুলোর মূল দায়িত্ব হবে স্টিয়ারিং কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি ক্যাটাগরিতে তিনজন করে শিক্ষকের একটি প্যানেল প্রস্তুত করা। এরপর এই প্যানেল জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির কাছে পাঠানো হবে। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই ও অনুমোদন প্রদান করবে। প্রয়োজনে কমিটি নতুন কোনো সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, গুণী শিক্ষক বাছাই প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যোগ্য ও প্রথিতযশা শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদান করা সরকারের লক্ষ্য। মন্ত্রী আরও বলেন, বাছাই প্রক্রিয়াটি নির্মোহ ও স্বচ্ছ হওয়া জরুরি।
যারা শিক্ষা ক্ষেত্রে ভালো কাজ করেছেন, তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া, পুরস্কৃত করা এবং উৎসাহিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। এই সম্মাননা প্রদানের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষকদের কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়ানো এবং তাদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশা করছে যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষকরা আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবেন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, বাছাই প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে বাছাইয়ের প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
