বিশ্ব চিঠি দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর বগুড়াসহ দেশের ছয়টি শহরে প্রায় ৫০০টি চিঠি বিতরণ করা হয়েছে। টিফিন ম্যাগাজিন বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালিত হয়। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এবং শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীদের হাতে নীল রঙের খাম তুলে দেওয়া হয়।
বগুড়া ছাড়াও ঢাকা, রাজশাহী, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে একযোগে এই প্রচার অভিযান পরিচালিত হয়। বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি কমিয়ে সাহিত্য ও বইমুখী করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক সংগঠনের সহ-সম্পাদক টি এম রিফাত আলম ও মোহাম্মদ ছাদিকুর রহমান রিফাত।
তারা জানান, যান্ত্রিক জীবনের বাইরে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের আবেগ ফিরিয়ে আনা এবং অপেক্ষার আনন্দ সম্পর্কে তরুণদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। চিঠি হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আজিজুল হক কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেল জানান, ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে চিঠির ভেতরে যে গভীর অপেক্ষা থাকে, তা থেকে বর্তমান প্রজন্ম বঞ্চিত।
এই খামটি হাতে পাওয়ার পর তার হাইস্কুল জীবনের স্মৃতি মনে পড়ে গেছে। ঐশী আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, তার জীবনে এটিই প্রথম চিঠি পাওয়ার অভিজ্ঞতা। তাৎক্ষণিক বার্তার ভিড়ে চিঠির মাধ্যমে যে মধুর অপেক্ষা ও আবেগ প্রকাশ পায়, তা আজকের দিনে বিরল। বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির মনে করেন, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে চিঠি লেখার চর্চা পুনরায় শুরু হলে তা সাহিত্য ও মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তরুণদের পাশাপাশি প্রবীণ পথচারীদের কাছে এই উদ্যোগটি শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি রোমন্থনের মাধ্যম হয়ে ওঠে। শহরের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা জালাল জানান, কয়েক দশক আগে প্রবাস জীবনে থাকাকালীন তিনি মায়ের চিঠির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। আধুনিক প্রযুক্তিতে পৃথিবীর সব খবর তাৎক্ষণিক পাওয়া গেলেও কাগজের চিঠিতে থাকা পারিবারিক উষ্ণতা ও সম্পর্কের গভীরতা এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
বিতরণ করা নীল খামের ভেতরে লেখা বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, একসময় চিঠিতেই জমা থাকত মানুষের মান-অভিমান, ভালোবাসা ও অপেক্ষা। এই কাগজের টুকরোটি মানুষের ব্যস্ত ও বিষণ্ন দিনে কিছুটা ভালো লাগার কারণ হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা। ডিজিটাল যুগের দ্রুতগতির যোগাযোগের বিপরীতে চিঠির মাধ্যমে আবেগ ছড়িয়ে দেওয়ার এই আয়োজন শহরবাসীর নজর কেড়েছে।
স্মার্টফোনের অন্তহীন নোটিফিকেশনের যুগে এমন অচেনা উপহার অনেকের কাছেই ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা। প্রযুক্তির অতিব্যবহারের ফলে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের যে আবেগ ফিকে হয়ে আসছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে এই কর্মসূচিকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণ প্রজন্মকে বই ও সাহিত্যের সুবাসে যুক্ত করতেই তারা এই বিশেষ আয়োজনটি করেছেন।
দিনব্যাপী এই কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
