বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি কারখানাটির বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। উত্তরবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে তিনি এই কারখানাটি পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রদূত কারখানায় সংরক্ষিত রানি এলিজাবেথের ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্ট সেলুন কোচটি ঘুরে দেখেন।
এছাড়া তিনি কারখানার বিভিন্ন শপ এবং ভ্যান মেরামত প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেন। রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই কারখানার দীর্ঘদিনের অবদান এবং এর কারিগরি দক্ষতার প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। পরিদর্শনকালে তিনি কারখানা প্রাঙ্গণে দুটি কমলালেবুর গাছের চারা রোপণ করেন। কারখানা পরিদর্শন শেষে তিনি সেখানকার প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
এই পরিদর্শনের সময় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ডিএস শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ, কর্মব্যবস্থাপক এম মমতাজুল ইসলাম, নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুজহাত তাসনিম আওন এবং সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকলিমাসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূতের এই সফরকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুর কারখানা ও এর আশপাশের এলাকায় জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
রেলওয়ে কারখানা ছাড়াও রাষ্ট্রদূত সৈয়দপুরের ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ এবং স্থানীয় একটি খ্রিস্টান চার্চ পরিদর্শন করেন। এর আগে রাষ্ট্রদূত ৩০ আগস্ট ঢাকা থেকে বিমানযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়িতে একটি দুগ্ধ খামার পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন রাষ্ট্রদূত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে অবস্থিত চতুর্দেশীয় আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এবং পঞ্চগড় জেলা আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। ওইদিন দুপুরে পঞ্চগড় সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি পঞ্চগড় রকস মিউজিয়াম এবং গ্রিন ফিল্ড টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করেন।
সেখান থেকে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। রাষ্ট্রদূত তার এই উত্তরবঙ্গ সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানীয় স্থাপনা ও শিল্পকারখানা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি দেশের রেল যোগাযোগ খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানাটি দীর্ঘ সময় ধরে রেলওয়ের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে আসছে।
রাষ্ট্রদূতের এই পরিদর্শনের মাধ্যমে কারখানাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে তিনি সরাসরি ধারণা লাভ করেন। স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে কারখানার সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হয়। রাষ্ট্রদূতের এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
পুরো সফরজুড়ে তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। রাষ্ট্রদূতের এই সফরটি মূলত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও অবকাঠামো সম্পর্কে জানার একটি অংশ ছিল। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় তার এই সফর রেলওয়ের কারিগরি সক্ষমতা ও ঐতিহ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূতের এই সফরটি নীলফামারীসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।
