সরাসরি
বাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাববাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব
National মিনিট পড়া
|১০০%|

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ
বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ — বাংলা ধ্বনি

বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ আজ ৩ সেপ্টেম্বর। ১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতার আহিরীটোলায় মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর প্রকৃত নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। বাবা সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় ও মা চপলা দেবীর সংসারে বেড়ে ওঠা অরুণের শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। পরিবারের নাট্যচর্চার পরিবেশ তাঁকে অভিনয়ের জগতে আসতে অনুপ্রাণিত করে।

জীবিকার প্রয়োজনে তিনি একসময় কলকাতা পোর্ট কমিশনার্সের দপ্তরে কেরানির চাকরি নিলেও অভিনয়ের স্বপ্ন থেকে বিচ্যুত হননি। ১৯৪৭ সালে হিন্দি চলচ্চিত্র ‘মায়াডোর’-এ ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে নীতিন বসু পরিচালিত ‘দৃষ্টিদান’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। তবে শুরুর দিকে বেশ কিছু ছবি ব্যবসায়িক সাফল্য না পাওয়ায় তাঁকে চলচ্চিত্রপাড়ায় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

১৯৫২ সালে নির্মল দে পরিচালিত ‘বসু পরিবার’ ছবির সাফল্যের পর তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। এরপর ১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিটির মাধ্যমে তিনি সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জুটি বেঁধে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই জুটি পরবর্তীতে ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘শাপমোচন’, ‘সাগরিকা’, ‘হারানো সুর’, ‘সপ্তপদী’ ও ‘বিপাশা’র মতো অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বাঙালির রোমান্টিকতার প্রতীকে পরিণত হয়।

উত্তমকুমারের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর স্বাভাবিকতা। তিনি কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করতে পারতেন। রোমান্টিক নায়কের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি নিজেকে বারবার ভেঙেছেন। তপন সিংহ পরিচালিত ‘ঝিন্দের বন্দী’ ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। ১৯৬৬ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ছবিতে অরিন্দম মুখার্জির চরিত্রে তাঁর অভিনয় চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের কাছে আজও আলোচনার বিষয়।

এই ছবিতে একজন তারকার জীবনের ভয়, সংশয় ও অপরাধবোধের যে সূক্ষ্ম প্রকাশ তিনি ঘটিয়েছিলেন, তা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অনন্য। ১৯৬৭ সালে ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগ চালুর পর তিনিই ছিলেন প্রথম বিজয়ী।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্রযোজনা, পরিচালনা ও সংগীত পরিচালনায়ও যুক্ত ছিলেন। ‘হারানো সুর’ তাঁর প্রযোজিত অন্যতম সফল চলচ্চিত্র। ব্যক্তিগত জীবনেও উত্তমকুমার ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। ১৯৪৮ সালে গৌরী দেবীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও পরবর্তী সময়ে অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জীবনের শেষ ১৭ বছর তিনি সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গেই কাটিয়েছেন।

অভিনয়ের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল আমৃত্যু। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবির শুটিং চলাকালে অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। সত্যজিৎ রায় তাঁর মৃত্যুর পর মন্তব্য করেছিলেন যে, বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তমের মতো আরেকজন নায়ক পাওয়া কঠিন। তাঁর মৃত্যুর চার দশকের বেশি সময় পরও তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে সমানভাবে সমাদৃত।

জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর ‘শতবর্ষে মহানায়ক’ শিরোনামে চার দিনের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ প্রদর্শনী। ইন্ডিয়া পোস্ট তাঁর স্মরণে বিশেষ ডাকটিকিট প্রকাশ করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ উত্তমকুমারের বহুমুখী প্রতিভার প্রশংসা করেছেন।

নতুন প্রজন্মের কাছে মহানায়কের কাজ পৌঁছে দেওয়াই এই জন্মশতবর্ষের আয়োজনের মূল লক্ষ্য। উত্তমকুমারের অভিনয়শৈলী, ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর অবদান আজও তাঁকে বাঙালির হৃদয়ে মহানায়ক হিসেবে বাঁচিয়ে রেখেছে। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো আজও নতুন মনে হয়, যা তাঁর অভিনয়ের কালজয়ী ক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT
তাসনিম আরা তথ্যাদি সম্পাদকীয় যাচাইকৃত

বাংলা ধ্বনি নিউজরুমের নিবন্ধিত সাংবাদিক। তথ্য অনুসন্ধান, সামাজিক সচেতনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বাংলা ধ্বনি নিউজরুম বিশেষ বিশ্লেষণ

এই প্রতিবেদনটি বাংলা ধ্বনি নিজস্ব সম্পাদকীয় পরিষদ কর্তৃক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যাচাইকরণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটির ধারাবাহিক আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম
পাঠকদের প্রতিক্রিয়া
পরিবেশনায়: তাসনিম আরা© 2026 Bangla Dhwani (বাংলা ধ্বনি)
সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ খবর

আরও পড়ুন

/ ১৫