ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার প্রায় ১০০ গজের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল করেছেন। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে এই মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. সানি শাহের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী মিছিলটি পরিচালনা করছেন।
মিছিলটি শহরের কাজীপাড়া মাহমুদ শাহ সড়ক এলাকা থেকে শুরু হয়ে জেলা শহরের প্রধান সড়ক টিএ রোড হয়ে সদর মডেল থানার নিকটবর্তী প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের সময় নেতাকর্মীদের হাতে শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত একটি ব্যানার দেখা যায়। ওই ব্যানারে ‘প্রত্যাবর্তন ২.০, শেখ হাসিনা আসছে’ এবং ‘ডেডলাইন নভেম্বর, ডেডলাইন ডিসেম্বর’ লেখা ছিল।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপট বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে, মিছিলটি ভোরের আলো ফোটার পরপরই সম্পন্ন হয়েছে। ভিডিওতে সড়কের আশপাশের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা থেকে এটি সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। মিছিল চলাকালীন বক্তারা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিভিন্ন বক্তব্য প্রদান করেন।
তারা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ‘অস্ত্র ও রক্তের অপরাজনীতির’ অভিযোগ তুলে ছাত্রলীগ ‘ফুল ও ভালোবাসা’ দিয়ে রাজপথ জয় করবে বলে ঘোষণা দেন। থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকার এত কাছে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন মিছিলের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোল্লা সালাউদ্দিন এই ঘটনার সময় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, থানার এত কাছে মিছিল হওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায় ছিল এবং তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী এই ঘটনাকে প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার থাকা প্রয়োজন। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কিভাবে গোপনে এসে মিছিল করার সাহস পেল, তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসন যদি তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে ছাত্রদলকে বিষয়টি আগে জানালে তারা নিজেরাই এর প্রতিরোধ গড়ে তুলত।
এই ঘটনার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রাকীব উর রাজা জানিয়েছেন, পুলিশ এ বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিল না। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নতুন নাকি পুরাতন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে।
সব ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই এই বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কাজ করছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
