প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে, দেশের বর্তমান সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। শনিবার বিকেলে এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত কিছু দিন ধরে সরকার স্বৈরাচারী আমল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি স্বীকার করেন যে, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে এবং সরকার এই বিষয়টি কখনো অস্বীকার করেনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি এই সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এই বিভ্রান্তির মাধ্যমে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করার পাঁয়তারা চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবাইকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, সরকার গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখবে এবং গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা সর্বোচ্চভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে দেশের প্রচলিত আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থা রয়েছে। নির্বাচিত সরকার হিসেবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, প্রত্যেকেরই নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকা উচিত।
আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী একটি রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচারী আমলে একটি রাজনৈতিক দল ‘গুপ্তবেশ’ ধারণ করে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল। তারেক রহমান জানান, পরবর্তীতে ওই দলের নিজস্ব লোকরাই বেরিয়ে এসে এই বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তার মতে, এই বিভ্রান্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ যে স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে, তাদেরই পুনরায় অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বৈরাচারী আমলে যারা আড়ালে লুকিয়ে ছিল, তারা এখন সেই স্বৈরাচারের পক্ষে থেকে অরাজকতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না। তিনি বলেন, যদি তা হয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে যারা গুপ্তভাবে ছিল তারা পুনরায় সেই স্বৈরাচারকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রী এই দাবির সপক্ষে উল্লেখ করেন যে, কয়েক দিন আগে ওই গুপ্তদের একজন নেতা এই বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন। তারেক রহমান বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এবং এর বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
