বাবা-মা যদি ভুল পথে পরিচালিত হন এবং সেই ভুলের কারণে সন্তানকে ব্যক্তিগত জীবনে কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়, তবে সেই পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদ নোমান আলী খান। তিনি বলেন, বাবা-মায়ের ভুল আচরণের বিষয়ে চুপ না থেকে বিনয়ের সাথে সত্য কথা বলা সন্তানের দায়িত্ব।
একটি ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরামর্শ দেন। নোমান আলী খান বলেন, পরিবারের সদস্যদের সাথে কোনো বিষয়ে কথা বলার সময় মানুষের মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে। এই ভয়ের কারণে মানুষ অনেক সময় সত্য কথা বলতে দ্বিধাবোধ করে। তিনি উল্লেখ করেন, সুরা আহজাবে আল্লাহ তাআলা মানুষকে কেবল তাঁকেই ভয় করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই নির্দেশের মূল বার্তা হলো, অন্য কোনো মানুষকে ভয় পেয়ে সত্য গোপন করা যাবে না। পারিবারিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এই ভয় দূর করা প্রথম শর্ত বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ভয়ের কারণেই মানুষ সরাসরি ও স্পষ্ট কথা বলতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা মানুষকে সোজা, স্পষ্ট ও সত্য কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন। নোমান আলী খান পরামর্শ দেন, বাবা-মায়ের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সময় সন্তানকে অত্যন্ত বিনয়ী হতে হবে। তিনি বলেন, বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান বজায় রেখে তাদের বোঝাতে হবে যে, তারা যা করছেন তা ভুল। সন্তানকে স্পষ্টভাবে বলতে হবে যে, বাবা-মায়ের অবদান অপরিসীম হলেও ভুলের বিষয়টি ভুল হিসেবেই গণ্য হবে।
কোরআনের পরিভাষায় একে ‘কাওলান সাদিদা’ বা সত্য ও সুদৃঢ় বক্তব্য বলা হয়েছে। নোমান আলী খান আরও বলেন, সত্য কথা একবার বলেই থেমে যাওয়া যাবে না। ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে তার সঠিক উত্তরও বারবার দিয়ে যেতে হবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, কোরআন মজিদেও সত্য বার্তা বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারণ মিথ্যার চর্চাও অনবরত চলতে থাকে।
এই সত্য উচ্চারণের জন্য অন্তরে প্রচুর সাহসের প্রয়োজন হয়। একজন নির্ভীক ও দৃঢ়চেতা মানুষ না হলে এমনটা করা সম্ভব নয়। আর সেই কারণেই সত্য বলার তাগিদ দেওয়ার ঠিক আগেই আল্লাহ তাআলা ‘আল্লাহকে ভয় করো’ বলে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই প্রক্রিয়ায় সত্য বলার চেষ্টা করলে আল্লাহ তাআলা সেই প্রচেষ্টাকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন।
বাবা-মায়ের ভুল পথে চলার কারণে সন্তান যদি ব্যক্তিগত জীবনে কষ্টের সম্মুখীন হয়, তবে সেই কষ্ট থেকে উত্তরণের জন্য কেবল দোয়া করাই যথেষ্ট নয়, বরং সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য বিনয়ের সাথে সত্য কথা বলার চেষ্টাও চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ভয় বা দ্বিধা রাখা যাবে না।
বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়া সন্তানের নৈতিক দায়িত্বের অংশ। এই প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ও সাহসের সাথে সত্যের পথে অটল থাকা প্রয়োজন। নোমান আলী খান বলেন, সত্য বলার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে পারিবারিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয় এবং ভুল সংশোধনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সত্য কথা বলার সময় বিনয় ও ভালোবাসা বজায় রাখা জরুরি, যাতে বাবা-মা কষ্ট না পান, কিন্তু একই সাথে ভুলের বিষয়ে কোনো আপস করা যাবে না। এই ভারসাম্য বজায় রাখাই একজন সন্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, যা সাহসের সাথে মোকাবিলা করতে হবে।
