বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অসুস্থ হয়ে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত কয়েকদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার শারীরিক সমস্যার মধ্যে ছিল জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট। এই উপসর্গগুলো নিয়ে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে কষ্ট পাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
জরুরি বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালের সিসিইউ বা করোনারি কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎমন্ত্রীকে দেখতে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে তিনি কিছু সময় অবস্থান করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি মন্ত্রীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। রাষ্ট্রপতি তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন বলে জানা গেছে। ফুসফুসের সংক্রমণজনিত সমস্যার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শ্বাসকষ্টের সমস্যাটি মূলত ফুসফুসের সংক্রমণের কারণেই দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা।
বর্তমানে তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অক্সিজেন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই হঠাৎ অসুস্থতার খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তার ফুসফুসের সংক্রমণের মাত্রা এবং অন্যান্য শারীরিক প্যারামিটারগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তার সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াটি কতদিন সময় নিতে পারে সে বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো সম্ভব নয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হবে। মন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন মহল থেকে শুভকামনা জানানো হয়েছে।
তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হবে বলে তার ব্যক্তিগত সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করছেন। মন্ত্রীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
তার পরিবারের সদস্যরাও হাসপাতালে তার সাথে রয়েছেন।
