বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বিকল হয়ে পড়া একটি ট্রাক মেরামত করার সময় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আরও একজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকার বাসিন্দা মামুন হোসেন ও হানজালা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যানুযায়ী, রাতে মহিপুর এলাকায় ঢাকাগামী একটি ট্রাক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মহাসড়কের ওপর বিকল হয়ে পড়ে। ট্রাকটি সচল করার উদ্দেশ্যে মামুন হোসেন, হানজালাসহ তিনজন ব্যক্তি সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে মেরামতের কাজ করছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওই তিনজনকে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কা দেওয়ার পরপরই গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে শেরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল আহতদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুন হোসেন ও হানজালাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে বিকল ট্রাক মেরামত করার সময় অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি মেরামতের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সতর্কতামূলক কোনো সংকেত ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া যে গাড়িটি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গেছে, সেটিকে শনাক্ত করার জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মহাসড়কে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে চালক ও সহকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রাতে মহাসড়কে কোনো যানবাহন বিকল হলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা এবং সড়কের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই ঘটনায় শেরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মহাসড়কে চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনের চালকদের সতর্ক করার জন্য হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে, যা অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয়রা মহাসড়কের এই অংশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন যাতে রাতে চলাচলকারী চালকরা দূর থেকে বিকল যানবাহন দেখতে পান। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতগতিতে চলাচলের সময় চালকের অসতর্কতা বা অন্য কোনো কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
