বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী একটি সরকারি গাড়ির ধাক্কায় ফিরোজা বেগম নামের ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি ধানখেতে পড়ে যায়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
তাঁর স্বামীর নাম মৃত নিজামুদ্দীন সরদার। তিনি দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ের জননী ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ফিরোজা বেগম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া গ্রামে তাঁর বড় মেয়ে শিরি বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। মহাসড়ক পার হয়ে অটোরিকশা ধরার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
সেই সময় প্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি তাঁকে ধাক্কা দেয়। ফিরোজা বেগমের স্বজন জাকির হাসান জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর ফিরোজা বেগম অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে সংসার চালাতেন। দুই বিঘা জমি চাষাবাদ করে তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। বড় ছেলে ফেরদৌস হোসেন কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। এরপর থেকে তিনি ছোট ছেলে সেলিম সরদার ও দুই পুত্রবধূর সঙ্গে বসবাস করতেন।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, ফিরোজা বেগম বয়স্ক ছিলেন এবং অসাবধানতাবশত মহাসড়ক পার হতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তাঁরা এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। ফিরোজা বেগমের পুত্রবধূ রেশমা বেগম জানান, সকালে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন।
কিন্তু মেয়ের বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে লাশ হয়ে ফিরতে হলো। বড় ছেলের স্ত্রী রিপা বেগম জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর শাশুড়িই ছিলেন তাঁর একমাত্র আশ্রয়। শাশুড়ির মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার বাদ আসর তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুজ্জামান জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এই দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী ও তাঁর স্ত্রীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ফিরোজা বেগমের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহাসড়ক পারাপারের সময় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। ফিরোজা বেগমের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে তাঁর পুত্রবধূরা শাশুড়িকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবেশীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
