বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর বহনকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি ধানক্ষেতে পড়ে গেছে। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার কিচক ব্রিজের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী অক্ষত থাকলেও ফিরোজা নামের এক পথচারী নারী আহত হয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। তার গাড়িবহরটি শিবগঞ্জের কিচক ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ একজন পথচারী নারী রাস্তা পার হওয়ার জন্য গাড়ির সামনে চলে আসেন। ওই পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী এবং তার সাথে থাকা তার স্ত্রী অক্ষত অবস্থায় গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। দুর্ঘটনার পরপরই প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী অন্য একটি গাড়িতে করে তাদের পূর্বনির্ধারিত গন্তব্য জয়পুরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তিনি নিরাপদে জয়পুরহাটে পৌঁছেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনার সময় গাড়ির সামনে চলে আসা পথচারী ফিরোজা আহত হয়েছেন। তাকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তার আঘাতের ধরন বা বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জয়পুরহাট যাওয়ার পথে কিচক এলাকায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের জমিতে নেমে যায়। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, এই দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি এবং তিনি সুস্থ অবস্থায় তার গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করে পুনরায় রাস্তায় তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য কাজ করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িবহরে থাকা অন্যান্য গাড়িগুলো নিরাপদে তাদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে গেছে।
সাধারণত এই ধরনের ভিআইপি প্রটোকল বা সরকারি গাড়িবহরের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় চালকের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় পথচারীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বা যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়ে আসে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
