বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে টানা ৪০ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালনের পর তা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতাদের দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই সঙ্গে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে আব্দুল মালেক নামের ৫৫ বছর বয়সী এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে মারামারিতে রূপ নেয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর স্বজনরা বার্মিজ চাকু ও রড নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এই হামলায় অন্তত ২১ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর বুধবার হাসপাতালের পক্ষ থেকে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ এই মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করে বিচারিক আদালতে পাঠিয়েছে। হামলার প্রতিবাদে এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার সকাল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে তারা হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সার্বক্ষণিক সচল রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা এবং চিকিৎসকদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠক চলাকালীন বগুড়া শহর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পাঁচ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাব।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বৈঠক শেষে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালে নিরাপত্তার স্বার্থে আর্মড আনসার মোতায়েন এবং সার্বক্ষণিক পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে এবং চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা প্রদান শুরু করেছেন।
