বগুড়ায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কৃষিকল হিমাগার নামে একটি কোল্ড স্টোরেজকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দুপুরে শহরের জয়পুরপাড়া মাটিডালী এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ। অভিযানে দেখা যায় যে, ওই হিমাগারটি সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। বস্তাপ্রতি ৪২০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে হিমাগারটির ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলামকে এই জরিমানা করা হয়েছে।
সরকার এবং হিমাগার মালিক সমিতি যৌথভাবে আলুর বাজার ও হিমাগার ভাড়া স্থিতিশীল রাখতে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৬ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর বগুড়ার অধিকাংশ হিমাগার এই নির্ধারিত ভাড়া মেনে চললেও কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকিতে কৃষিকল হিমাগারের বিরুদ্ধে বস্তাপ্রতি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতেই জেলা প্রশাসন এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সমন্বিত অভিযানে এই জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ জানান, এর আগে ওই হিমাগার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা সত্ত্বেও তারা সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করে আসছিল। অভিযানে এর সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
হিমাগার কর্তৃপক্ষ এই জরিমানার পর ভবিষ্যতে আর সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, তারা এখন থেকে নির্ধারিত হারের সাথে সাথে সরকারি প্রজ্ঞাপন মেনে চলবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ আরও জানান, প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষায় বগুড়ার সব হিমাগারে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মনিটরিং জোরদার করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো হিমাগার যদি ভবিষ্যতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করে, তবে তাদের সাথে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের অনিয়ম দূর করতে জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন হিমাগারে অভিযান পরিচালনা করবে। অর্থদণ্ডের পাশাপাশি প্রয়োজনে কারাদণ্ড দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কৃষকদের আলু সংরক্ষণ করার জন্য নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া থেকে বিরত রাখা। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক চাপ কমানো এবং বাজারে আলুর সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে বলে জেলা প্রশাসন মনে করে।
বগুড়ার হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণ করার বস্তাপ্রতি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে কৃষকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তদারকি কার্যক্রম আরও জোরালীর করা হয়েছে।
