বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের চলমান কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরেছেন। চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছিলেন। হাসপাতালের প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পর শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে তারা সাময়িকভাবে কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন।
তাদের আন্দোলনের ফলে হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায় এবং জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কয়েক দফা বৈঠক করেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। এছাড়া, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন আনসার সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আনসার কমান্ডারসহ মোট ২০ জন সদস্যকে বদলি করা হয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসক রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ জানান, তাদের দাবিগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য তারা সাময়িকভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-ই-মোর্শেদ নিশ্চিত করেছেন যে, শুক্রবার দুপুর থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা পুনরায় রোগীদের সেবা প্রদান শুরু করেছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার ভিন্ন একটি দিকও সামনে এসেছে। রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর স্বজন ও পরিচিতদের ওপর হামলা করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার শুক্রবার বিকেলে বগুড়া প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।
তারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, ওই হামলার ঘটনায় ওয়ার্ড মাস্টারসহ ৩০ থেকে ৪০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে বগুড়া সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাজে ফেরার ফলে রোগীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দায়ের করা অভিযোগ এবং তদন্তের বিষয়টি এখনো চলমান রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
