বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। এই কর্মসূচির ফলে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে কাউন্টারটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করলেও চিকিৎসকদের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন রাত ১২টা থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতির ডাক দেন। বুধবার দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা অভিযোগ করেন যে, হামলায় অন্তত ১৫ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ মোট চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।
তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বহির্বিভাগের সেবা বন্ধসহ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। মারামারির ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ইতোমধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
এই সভায় চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ জানান, বহির্বিভাগে কিছুটা সমস্যা তৈরি হলেও মূল চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, মিডলেভেল চিকিৎসক, সহকারী অধ্যাপক এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রধানসহ অন্যান্য চিকিৎসকেরা রোগীদের সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।
হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অনেক রোগী সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে যারা গ্রাম থেকে চিকিৎসার আশায় এসেছেন, তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগীয় সেবা চালু থাকলেও বহির্বিভাগের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং রোগীদের ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
