বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের আপসন ও সাদুরিয়া এলাকায় তিন ফসলি উর্বর কৃষি জমিতে আঞ্চলিক খাদ্যগুদাম বা সিএসডি নির্মাণের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। রোববার সকালে বগুড়া-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তারা এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। ফসলি জমি রক্ষা আন্দোলন কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, প্রস্তাবিত আপসন ও সাদুরিয়া মৌজার ১০০ বিঘারও বেশি জমি অত্যন্ত উর্বর এবং এই অঞ্চলের কৃষকদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। এই জমিতে সারা বছর ধান, আলু ও সরিষাসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফসল উৎপাদিত হয়। কৃষকদের দাবি, এই উর্বর কৃষি জমিতে সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে শত শত কৃষক পরিবার তাদের আয়ের উৎস হারিয়ে ফেলবে এবং ভূমিহীন ও বেকার হয়ে পড়বে।
মানববন্ধন চলাকালে স্থানীয় কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, এই জমিগুলো তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। এখানে খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হলে কৃষকরা তাদের চাষাবাদের জমি হারাবেন, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে ঠেলে দেবে। অপর কৃষক মুনছুর রহমান বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যারা ফসল উৎপাদন করেন, তাদের উর্বর জমি অধিগ্রহণ করে খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, কৃষি জমি নষ্ট করে কোনো ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বা সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ করা উচিত নয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কৃষি জমি রক্ষা করা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। তারা অবিলম্বে তিন ফসলি জমিতে খাদ্যগুদাম নির্মাণের প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানান।
একইসঙ্গে তারা এই প্রকল্পটিকে কোনো অকৃষি জমিতে স্থানান্তরের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। কৃষকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি তাদের এই দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এই অঞ্চলের কৃষকরা মনে করেন, খাদ্যগুদাম নির্মাণের জন্য বিকল্প জায়গা নির্বাচন করা সম্ভব, যেখানে কোনো উর্বর কৃষি জমি নষ্ট হবে না।
তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। মানববন্ধন শেষে স্থানীয় কৃষকরা তাদের দাবি সংবলিত স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার কৃষকদের এই যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করবে এবং উর্বর কৃষি জমি রক্ষার স্বার্থে প্রকল্পটির স্থান পরিবর্তনের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, কৃষি জমি কমে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে কৃষকরা তাদের অবস্থানে অনড় থেকে দাবি আদায়ে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
