বিএনপির সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী দলের নেতাকর্মীদের বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড পৌর সদরে আয়োজিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক র্যালি ও জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে দলের ভেতরে কোনো ধরনের বিভাজন তৈরি করা যাবে না।
সীতাকুণ্ড তথা চট্টগ্রাম-৪ আসনকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে সারাদেশে তুলে ধরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। জনসভায় আসলাম চৌধুরী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের স্বকীয়তা ও আত্মপরিচয় রক্ষার লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি এ দেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রা ও সমৃদ্ধির একটি বিশ্বস্ত ঠিকানা এবং গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে আপসহীন নেত্রীর মর্যাদা পেয়েছেন এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে একটি অনন্য রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী ও মেধাবী নেতৃত্বে বাংলাদেশ মানবিক ও পরিবর্তিত রাজনীতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তারেক রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং তার নেতৃত্বে দেশ স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদরের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মোহাম্মদ মোরছালিনের সঞ্চালনায় এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন যুগ্ম-আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, সালামত উল্ল্যাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব ফজলুল করিম চৌধুরী, পৌর বিএনপি আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্যসচিব ছালেহ আহমদ সলু, ইউসুফ নিজামী, বদিউল আলম বদরুল, দিদারুল ইসলাম মাহমুদ, নুরুল আনোয়ার চেয়ারম্যান, নুরুদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান এবং মোজাহের উদ্দিন আশরাফ।
এছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন। জনসভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি সীতাকুণ্ড পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন স্লোগান দেন। আসলাম চৌধুরী তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেন যে, দলের লক্ষ্য অর্জনে নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্য বজায় রাখা অপরিহার্য।
তিনি স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সীতাকুণ্ডকে উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য তিনি নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে তিনি সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
জনসভা ও র্যালির মাধ্যমে দলটি তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কেও বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আসলাম চৌধুরীর এই বক্তব্য দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে স্থানীয় নেতারা মনে করছেন।
