প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারিক রহমান শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিএনপি-র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছেন। রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ বা কেআইবি-র অডিটোরিয়ামে এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এই অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে এই আলোচনা সভাটি শুরু হয়। বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন।
বিএনপি-র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও পশুপালন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। এই আলোচনা সভায় বিএনপি-র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয় এবং এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, বিএনপি-র সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দেশের ও দলের জন্য জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।
এরপর দলের দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং বিএনপি-র উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বিএনপি-র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছিল। এই কর্মসূচিগুলোর সমাপ্তি ঘটে শনিবারের এই আলোচনা সভার মাধ্যমে।
এই আলোচনা সভায় বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুব উল্লাহ, মির্জা আব্বাস, গাইয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানুল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম এবং ইসমাইল জাবিহুল্লাহসহ আরও অনেকে অংশগ্রহণ করেন।
এই আলোচনা সভার মাধ্যমে দলের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এবং দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়ে তাদের মতামত প্রদান করেন।
প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং দলের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় এই সভায়। দলের সদস্যরা তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখার অঙ্গীকার করেন।
বিএনপি-র এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কর্মসূচির মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তা প্রদর্শিত হয়েছে। পাঁচ দিনের এই কর্মসূচিমালা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলের কর্মীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল, যা চূড়ান্ত আলোচনা সভার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
