বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শেষে বুধবার রাতে ঢাকায় ফিরছেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, মির্জা আব্বাস বুধবার রাত ৯টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন।
তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস মালয়েশিয়া থেকে জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার পরই তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। পরিবারের সদস্য এবং দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় চিকিৎসার পর মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
তবে দেশে ফেরার পরও তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হবে। এর অংশ হিসেবে তাকে প্রতিদিন ফিজিওথেরাপি নিতে হবে। মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ১১ মার্চ। ওইদিন সন্ধ্যায় ঢাকার শাহজাহানপুরের নিজ বাসভবনে ইফতার করার সময় তিনি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করেন। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে ১৫ মার্চ তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার পর তাকে পরবর্তী বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। মির্জা আব্বাস বর্তমানে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া তিনি বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও বর্তমানে তিনি সুস্থতার পথে রয়েছেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাসের এই চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিনি এখন দেশে ফিরে তার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন। তার দেশে ফেরা উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতির বিষয়টিও লক্ষ্য করা গেছে। মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার অংশ হিসেবে দেশে ফেরার পর চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর তার এই প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি দেশে ফেরার পর তার শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী পুনরায় রাজনৈতিক ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে।
তার চিকিৎসার পুরো সময়জুড়ে দলীয় নেতারা নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত হয়ে দেশে ফিরছেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন। তবে তার নিয়মিত চেকআপ এবং ফিজিওথেরাপি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা। তার এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার বিষয়টি তার অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
বুধবার রাতে বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি তার বাসভবনে যাবেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটাবেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করবেন। তার শারীরিক উন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মেডিকেল বোর্ড তাকে ভ্রমণের অনুমতি প্রদান করে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
তার সুস্থতা কামনা করে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছিল। এখন তিনি দেশে ফিরে তার নিয়মিত জীবনযাত্রায় ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তার এই ফেরা নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
