বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাবেক বিচারপতি, আইনজীবী, ব্যবসায়ী এবং আলেমসহ মোট ৬৫০ জন ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক দাওয়াতি সমাবেশে তারা এই দলে যোগ দেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নতুন যোগদানকারীদের ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে দলে বরণ করে নেন।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। যোগদানকারীদের তালিকায় সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. এএসএম খালেকুজ্জামান রয়েছেন। এছাড়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদও জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজী আলতাব হোসেন, ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান বাবু এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাবেদ ওমর। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আবুল আয়েশ খান, মো. ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজী শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ, ডা. হুমায়ন কবির এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও আলেমদের মধ্যে বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ কোল্লল, কওমি আলেম মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা মো. জসিম উদ্দিন এবং মাওলানা হাসান জামিলসহ অন্যরা এই দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছেন।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন। এই যোগদানের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী তাদের সাংগঠনিক পরিধি ও জনবল বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এই যোগদানকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন যোগদানকারীদের মধ্যে থাকা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও বিচারকদের উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমাবেশে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে দলের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানান।
এই আয়োজনের মাধ্যমে দলটির পক্ষ থেকে তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের একটি প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে। যোগদানের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনায়তনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়, যা দলটির সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যোগদানের এই তালিকায় বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি ও যুবদলের নেতাদের উপস্থিতি রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া আলেম সমাজের বড় একটি অংশের যোগদান দলটির ধর্মীয় ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। সামগ্রিকভাবে, ৬৫০ জনের এই যোগদান জামায়াতে ইসলামীর জন্য একটি বড় সাংগঠনিক অর্জন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
