ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিদিশা সিদ্দিককে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির বুধবার শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। এর ফলে মামলার আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তাকে কারাগারেই অবস্থান করতে হবে। বিদিশা সিদ্দিকের পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেছিলেন।
অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান জামিনের বিরোধিতা করেন। বিদিশার আইনজীবী মনিরুজ্জামান সবুজ আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আপিল করার শর্তে জামিন চাওয়া হয়েছিল, তবে আদালত তা মঞ্জুর করেননি। এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এই প্রতারণার মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিচার শেষে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে পলাতক উল্লেখ করে আদালত সাজার পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এরপর গত ২৫ আগস্ট রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদারকে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখিয়ে বিক্রির প্রস্তাব দেন।
ফ্ল্যাটটির দাম ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দুজনের মধ্যে চুক্তি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা মোশাররফকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন এবং ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে বায়নানামা করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি অর্থ পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে বাদী অভিযোগ করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। বাদী নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপরও বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা বা ফ্ল্যাট কোনোটিই ফেরত কিংবা বুঝিয়ে দেননি বলে অভিযোগ করেন মোশাররফ হোসেন সিকদার।
এমনকি তাকে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও মামলায় করা হয়েছে। বর্তমানে আদালতের দেওয়া সাজা ও জামিন নামঞ্জুরের সিদ্ধান্তই কার্যকর রয়েছে। বিদিশার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জামিনের জন্য তারা উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন।
