ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুটি বাসের সংঘর্ষে একজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা অভিমুখী বিকাশ পরিবহনের একটি বাসের পেছনে দ্রুতগামী হামিম পরিবহনের আরেকটি বাস সজোরে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের তীব্রতায় হামিম পরিবহনের এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন এবং হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। শিবচর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. মুনতাসির এই সড়ক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করে।
আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জন যাত্রী রয়েছেন যাদের বিভিন্ন মাত্রায় আঘাত লেগেছে। আহতদের মধ্যে একটি শিশুর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে ওই শিশুকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ওই অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
তবে পুলিশ দ্রুত দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তি বা আহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার জন্য কাজ চলছে। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, দ্রুতগতিতে বাস চালানোর সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী যানবাহনের গতিবিধি এবং দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। চালকদের সতর্কতার সাথে গাড়ি চালানোর নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণপাড়া এলাকাটি এক্সপ্রেসওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এখানে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং নিহত ব্যক্তির পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মহাসড়কে চলাচলকারী সকল চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
