ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ ফরিদপুর সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। সংসদ সদস্য বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন যে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমি নিবন্ধনের সময় প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেখানে ২০০ টাকা নেওয়ার কথা, সেখানে অনেক বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং এই সংগৃহীত অর্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন। মতবিনিময় সভায় চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ ফরিদপুরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির উপস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পেই তিনি দুর্নীতির চিত্র দেখতে পাচ্ছেন, যা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি এই ধরনের অনিয়ম সহ্য করবেন না। তার লক্ষ্য হলো ফরিদপুরকে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসের কোনো স্থান থাকবে না।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, যতদিন তিনি দায়িত্বে আছেন, ততদিন অন্যায়কে ন্যায়ের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করার জন্য কাজ করে যাবেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে সংসদ সদস্য বলেন, তাদের কলমের শক্তি একজন যোদ্ধার চেয়েও বেশি। তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন যেন তারা ফরিদপুরের মাটিতে ঘটে যাওয়া সব ধরনের অন্যায় ও অনিয়মের চিত্র নির্ভীকভাবে তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক সময় সব অন্যায়ের খবর তার কাছে পৌঁছায় না, তাই সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি সেগুলো জানতে পারবেন। তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের কোনো শঙ্কা থাকার কারণ নেই। এমনকি তিনি নিজেও যদি কোনো অন্যায় করেন, তবে সেটিও যেন সাংবাদিকরা সংবাদে তুলে ধরেন, যাতে তিনি নিজেকে সংশোধন করার সুযোগ পান।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ আসন থেকে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুত তাওয়াব পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর এত বিপুল পরিমাণ ভোট পাওয়া নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এই ফলাফল তাকে অবাক করেছে কারণ তিনি মনে করেন না যে দলটি প্রকৃত ইসলামি আদর্শের চর্চা করে। তিনি দাবি করেন, তার পরিবার দক্ষিণবঙ্গে ইসলাম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জামায়াতে ইসলামীর এই ভোট পাওয়ার পেছনে তিনি নিজেদের দলের অতীত ভুলত্রুটি, অন্যায় ও চাঁদাবাজিকে দায়ী করেন।
তিনি স্বীকার করেন যে, দলের ভেতরে থাকা ত্রুটিগুলো সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত অন্যদের সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার তাদের নেই। তিনি ফরিদপুরের মাটি থেকে সব ধরনের অন্যায় ও অনাচার দূর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সভায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
এ সময় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্যের এই বক্তব্য ফরিদপুরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা দ্রুত এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে মুক্তি দেন।
তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরকারি সেবার মান উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
