ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া এক ভ্যানচালকের চার মেয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম জহির। শনিবার বিকেলে উপজেলার ময়না ইউনিয়নে ভ্যানচালক সানোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তিনি এই সহায়তার অংশ হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। সানোয়ার হোসেনের ছয় মেয়ের মধ্যে চারজন স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
অভাবের সংসারে ভ্যান চালিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসার চালানোই যখন কঠিন হয়ে পড়েছিল, তখন মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হয়। এই পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে ছাত্রদল নেতা জহিরুল ইসলাম তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
শনিবার বিকেলে জহিরুল ইসলাম সানোয়ার হোসেনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার মেয়েদের হাতে পড়াশোনার খরচ বাবদ নগদ অর্থ তুলে দেন। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ভ্যানচালক সানোয়ার হোসেন জানান, তিনি অত্যন্ত দরিদ্র একজন মানুষ। ছয় মেয়ের মধ্যে চারজন স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।
ভ্যান চালিয়ে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করাই কষ্টসাধ্য। এই পরিস্থিতিতে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। অর্থের অভাবে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। জহিরুল ইসলাম তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোয় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সানোয়ার হোসেন আরও জানান, জহিরুল ইসলাম কেবল নগদ অর্থই দেননি, বরং ভবিষ্যতে মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সব ধরনের খরচ বহন করার আশ্বাসও দিয়েছেন। জেলা ছাত্রদল নেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামের অনুপ্রেরণায় তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তার মূল লক্ষ্য হলো, অর্থের অভাবে যেন কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়। তিনি জানান, সমাজের অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি মনে করেন, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা একটি সামাজিক দায়িত্ব। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সানোয়ার হোসেনের চার মেয়ের শিক্ষা জীবন পুনরায় শুরু হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।
স্থানীয় পর্যায়ে এই সহায়তা কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি ব্যক্তিগত ও দলীয় দায়বদ্ধতা থেকে এই কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষার্থীর সহায়তায় এগিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সানোয়ার হোসেনের পরিবারের জন্য এই সহায়তা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
