জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবিতে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের অংশ হিসেবে ফেনীর মহিপালে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দুপুর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল এলাকায় এই পথসভার কার্যক্রম শুরু হয়। আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক ১১ দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।
বিকেল সাড়ে তিনটায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে আসন গ্রহণ করার পর পথসভার মূল কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী মহাসড়কের একটি অংশে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য ১১ দলের স্বেচ্ছাসেবকেরা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী লক্ষ্মীপুর থেকে আসা জাবের নামের এক ব্যক্তি জানান, গত ছয় মাসে বিএনপি সরকার মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্যাস সংকটের কারণে যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তীব্র গরমের মধ্যেও লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই সমস্যাগুলোর প্রতিবাদে তিনি ১১ দলের লংমার্চে অংশ নিতে এসেছেন।
জামায়াত কর্মী মাইনুল নামের একজন ব্যক্তি বলেন, এই লংমার্চে ১১ দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বড় আকারে অংশ নিয়েছেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের এই অংশগ্রহণ পথসভাটিকে একটি মহাসমাবেশে পরিণত করেছে।
পথসভার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহিপাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশ মূল মঞ্চের চারপাশে একটি নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে রাখে। এছাড়া মহাসড়কের যান চলাচল সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিলেন।
এই লংমার্চটি মূলত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এই জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। মহাসড়কের একটি অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও স্বেচ্ছাসেবক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
ফেনীর মহিপালে অনুষ্ঠিত এই পথসভাটি ১১ দলীয় ঐক্যজোটের রাজনৈতিক কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে আসা মানুষের ভিড় এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট এবং লোডশেডিংয়ের মতো নাগরিক সমস্যাগুলো এই সমাবেশের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
