ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে নিজাম উদ্দিন নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে নোয়াখালীর চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার সকালে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাগনভূঞা উপজেলার একটি মাদরাসার হেফজখানার আবাসিক ছাত্র গত ১ আগস্ট রাতে বলাৎকারের শিকার হয়।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা বাদী হয়ে গত ২৯ আগস্ট দাগনভূঞা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক নিজাম উদ্দিন আত্মগোপনে চলে যান। তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল নোয়াখালীর চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
এই অভিযানে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজাম উদ্দিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়জুল আজিম নোমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মাদরাসার আবাসিক ছাত্রের ওপর এমন নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১ আগস্ট রাতে মাদরাসার ভেতরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজাম উদ্দিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে কি না, তা তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নেবেন। এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দাগনভূঞা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই তারা আসামিকে গ্রেফতারের জন্য তৎপর ছিল। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আসামির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাদরাসার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এই মামলার তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত পুলিশি হেফাজতে থাকা আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
