প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া কক্সবাজারের যুবক পার্বন বড়ুয়ার বর্তমান অবস্থা ও তার ভাগ্যে কী ঘটেছে তা তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও ফার্স্ট সেক্রেটারিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
পার্বনের মা শেলী প্রভা বড়ুয়ার করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই রুলসহ আদেশ জারি করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মধ্যম মেরংলোয়া বড়ুয়াপাড়া গ্রামের বাবুল বড়ুয়া ও শেলী প্রভা বড়ুয়ার ছেলে পার্বন বড়ুয়া। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণের স্বপ্ন ছিল একজন দক্ষ শেফ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া।
এই লক্ষ্য অর্জনের আশায় তিনি ধারদেনা করে ফিজিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এর আগে তিনি কক্সবাজারের সি-পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা হোটেলে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার সহকর্মী ছিলেন ময়মনসিংহের মিন্টু সাংমা। মিন্টু পরবর্তীতে ফিজিতে চলে যান। ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে পার্বন ফিজিতে পৌঁছান এবং মিন্টুর সহায়তায় সেখানকার টাপ্পো গ্রুপের নিউইয়র্ক পিজ্জা কিচেনে শেফ হিসেবে যোগ দেন।
সেখানে ভারতীয় নাগরিক প্রাভিন ও সুরেন্দ্র নামে আরও দুইজন শেফ কর্মরত ছিলেন। পার্বন প্রাভিনের বাসায় সাবলেট থাকতেন। তবে পরবর্তীতে সুরেন্দ্র, প্রাভিন ও ম্যানেজার মিন্টুর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০২৫ সালের ৬ জুলাই পার্বন তার মাকে ফোন করে জানান যে, তার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে তাকে যেকোনো সময় হত্যা করা হতে পারে। এই ফোনালাপের পর থেকেই পার্বনের সঙ্গে পরিবারের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরদিন মিন্টু পার্বনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দাবি করেন যে, পার্বন হোটেল থেকে পালিয়ে গেছেন। এরপর পার্বনের মামা যতিসেন বড়ুয়া বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান।
কিন্তু সেখান থেকে কোনো কার্যকর প্রতিকার না পেয়ে পার্বনের মা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া জানান, ফিজিতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাই আদালত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার ও ফার্স্ট সেক্রেটারিকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। পার্বন বড়ুয়া বর্তমানে কোথায় আছেন বা তার সঙ্গে কী ঘটেছে, তা খুঁজে বের করাই এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য।
আদালতের এই আদেশের ফলে নিখোঁজ যুবকের পরিবারের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা এখন তাদের সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। আদালত একই সঙ্গে কেন এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
