সরাসরি
বাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাববাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব
National মিনিট পড়া
|১০০%|

পেঁয়াজ সংরক্ষণে আইওটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করলেন বাকৃবি গবেষকরা

পেঁয়াজ সংরক্ষণে আইওটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করলেন বাকৃবি গবেষকরা
পেঁয়াজ সংরক্ষণে আইওটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করলেন বাকৃবি গবেষকরা — বাংলা ধ্বনি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যা ব্যবহারের মাধ্যমে সংরক্ষণকালীন অপচয় প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। এই প্রযুক্তিটি মূলত ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি-ভিত্তিক একটি পদ্ধতি, যা পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরিবেশকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলীর নেতৃত্বে এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার সঙ্গে সহকারী গবেষক হিসেবে রয়েছেন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নাফিস সাদিক সায়েম এবং স্নাতক শিক্ষার্থী রাহাত মিয়া। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই গবেষণা প্রকল্পটি শুরু হয়।

বর্তমানে প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক পর্যায় ও ফলাফল বিশ্লেষণের মধ্যে রয়েছে। অধ্যাপক ড. রোস্তম আলী জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই দুই উপাদানের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা না গেলে পেঁয়াজ দ্রুত পচে যায় এবং ওজনে হ্রাস পায়। নতুন এই প্রযুক্তিতে পেঁয়াজ রাখার স্থানে সেন্সর স্থাপন করা হয়েছে।

এই সেন্সরগুলো নিয়মিত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য সংগ্রহ করে এবং পরিবেশের পরিবর্তন শনাক্ত করে। যদি সংরক্ষিত পেঁয়াজের ভেতরের পরিবেশে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে এই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা বা এয়ারফ্লো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে ফ্যানের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে পেঁয়াজ দীর্ঘসময় ভালো থাকে।

গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে পেঁয়াজ পচন ও ওজন হ্রাসের হার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। গবেষকরা বর্তমানে বিভিন্ন সংরক্ষণ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করছেন এবং সংরক্ষিত পেঁয়াজের গুণগত মানের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে বার্ষিক পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৪২ দশমিক ৬৪ লাখ টন।

অথচ দেশের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টন। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়া সত্ত্বেও সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রতিবছর পেঁয়াজের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৮৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদন বেশি হওয়ার পরও সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি তৈরি হয়।

অধ্যাপক ড. রোস্তম আলী বলেন, উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরা ফসল তোলার পরপরই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হন। এতে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এই প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে কৃষকরা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রির সুযোগ পাবেন।

এটি পেঁয়াজের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষকরা জানান, এই প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পরবর্তী ধাপে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তব পরিবেশে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে কৃষক পর্যায়ে এবং বাণিজ্যিক সংরক্ষণকেন্দ্রে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, উন্নত সেন্সর এবং কারিগরি সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যবহারের উপযোগী একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল তৈরি করা সম্ভব হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিল্প উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা সহজ হবে বলে গবেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য পেঁয়াজের ফলন বাড়ানো নয়, বরং উৎপাদনের পরবর্তী অপচয় কমিয়ে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি রোধ করা এবং দেশের পেঁয়াজ সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT
রেজাউল করিম তথ্যাদি সম্পাদকীয় যাচাইকৃত

বাংলা ধ্বনি নিউজরুমের নিবন্ধিত সাংবাদিক। তথ্য অনুসন্ধান, সামাজিক সচেতনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বাংলা ধ্বনি নিউজরুম বিশেষ বিশ্লেষণ

এই প্রতিবেদনটি বাংলা ধ্বনি নিজস্ব সম্পাদকীয় পরিষদ কর্তৃক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যাচাইকরণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটির ধারাবাহিক আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম
পাঠকদের প্রতিক্রিয়া
পরিবেশনায়: রেজাউল করিম© 2026 Bangla Dhwani (বাংলা ধ্বনি)
সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ খবর

আরও পড়ুন

/ ১৫