গণমাধ্যমে কর্মরত নারী সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মদক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু। শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণমাধ্যমে নারী সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নারী সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন এবং পেশাগত জীবনে তাদের নানা অভিজ্ঞতা ও প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরেন। নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে নারী সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্র, পরিবার ও সমাজসহ বহুমুখী বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। প্রতিটি বাধা থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে পুঁজি করে তাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নারী সাংবাদিকদের একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো পেশাগত দুর্যোগ মোকাবিলা করা সহজতর হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহনাজ সিদ্দিকী সোমা আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন। সভায় বক্তারা সাংবাদিকতায় নারীদের অংশগ্রহণ, বর্তমান পরিসংখ্যান, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক হয়রানি, চরিত্রহনন, চাকরি ও আর্থিক নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন।
দীপ্ত টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান রুনা আনসারী বলেন, যারা সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে পারেন, তাদেরই এই পেশায় আসা উচিত। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক লায়লী বেগম জানান, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির সময় তাকে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ইটিভির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাকেরা আরজু শিমু বলেন, সরকার বা পরিস্থিতির পরিবর্তন যাই হোক না কেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার জায়গা ঠিক রেখে কাজ করে যেতে হবে।
উইমেন জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সমন্বয়কারী এবং ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি আঙ্গুর নাহার মন্টি পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শেখার আগ্রহ ও মেধা ধরে রাখার ওপর জোর দেন। তিনি প্রতিকূলতার মুখে পড়া সাংবাদিকদের সহায়তায় একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার বা ডাটাবেজ তৈরির প্রস্তাব করেন। সভায় সংগঠনের সহ-সভাপতি মুনিমা সুলতানা, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনাজ পারভীন এলিস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দিলরুবা খানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ নারী সাংবাদিকদের মৌলিক কর্মক্ষেত্রের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য জোরদার এবং নারী সাংবাদিকদের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়। সভায় উপস্থিত বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা এবং এখানে টিকে থাকতে হলে প্রতিনিয়ত নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক সাংবাদিকতার ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য নারী সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে আলোচনায়। সবশেষে, নারী সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে এবং পেশাগত মানোন্নয়নে নিয়মিত এমন আলোচনা ও কর্মশালা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
