ইসলামে বিয়ের মৌলিক শর্তাবলি যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে পালিয়ে বিয়ে করলে বিয়ে শুদ্ধ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই ধরনের বিয়েতে অভিভাবকের সম্মতি owne এবং সামাজিক ও পারিবারিক বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যাদের মধ্যে বিয়ে হারাম নয় এবং নারীটি অন্য কারো সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নয়, তারা যদি দুইজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর সামনে যথাযথ পদ্ধতিতে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করে, তবে বিয়েটি শুদ্ধ হয়ে যায়।
বিয়ের মৌলিক শর্ত হিসেবে ইজাব-কবুল অর্থাৎ এক পক্ষের প্রস্তাব এবং অন্য পক্ষের তা গ্রহণ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষীর সামনে বিয়ে সম্পন্ন হওয়া এবং সাক্ষীদের দ্বারা ইজাব-কবুল শ্রবণ করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে।
তবে ইসলামে বিয়েকে একটি মহৎ ইবাদত এবং জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই কারণে, বিয়ে বাবা-মা এবং পরিবারের মুরুব্বিদের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে করা সমীচীন বলে জানানো হয়েছে। বিশেষত নারীর ক্ষেত্রে বাবা, ভাই বা তাদের অবর্তমানে অন্য অভিভাবকের মতামত ছাড়া বিয়ে করা কোনোভাবেই সমীচীন নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনেক আলেমের মতে, অভিভাবকদের মতামত ছাড়া বিয়ে করলে নারীর বিয়ে শুদ্ধ হয় না।
জীবনের সবচেয়ে গুরুগম্ভীর এবং স্পর্শকাতর অধ্যায় হিসেবে বিয়ের ক্ষেত্রে ক্ষণিকের আবেগের চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং পাত্র-পাত্রীর সামাজিক সমতার বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি বলে জানানো হয়েছে। পরিবারের প্রবীণ ও অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে বলা হয়েছে।
তরুণ-তরুণীদের প্রতি এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, মা-বাবা কিংবা পরিবারের মুরুব্বিরা কখনোই তাদের অমঙ্গল চান না। তারা সন্তানের সুদূরপ্রসারী মঙ্গল, বিয়ের স্থায়িত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই অনেক সময় তরুণ বয়সের তাড়াহুড়ো বা পছন্দকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করতে পারি না।
তাই তাদের আপত্তির কারণ তাৎক্ষণিকভাবে অনুধাবন না করতে পারলেও তরুণ-তরুণীদের উচিত তাদের অভিজ্ঞতা ও কল্যাণকামিতার ওপর ভরসা রাখা। বিয়ের জন্য তাড়াহুড়া না করা এবং প্রয়োজনে তাদের আরও বুঝিয়ে তাদের সম্মতি ও দোয়া নিয়েই বিয়ে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনার মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদিও নির্দিষ্ট শর্তাবলি পালনের মাধ্যমে বিয়ে শুদ্ধ হতে পারে, তবে সামাজিক ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং পারিবারিক সম্মতির গুরুত্ব অপরিসীম। ভুল সিদ্ধান্ত জীবনের সম্মান ও শান্তি চিরতরে কেড়ে নিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
