বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সরকারি দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে মতবিনিময় করেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার দ্রুত অবসান ঘটবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং বৃহত্তর স্থিতিশীলতার জন্য স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং বহিঃবিশ্বের মানুষের জন্যও কল্যাণ বয়ে আনবে। ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা করেন। দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
বৈঠকে দুই দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি মূলত দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতার অংশ। বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে যে পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যকার এই ধরনের আলোচনা নিয়মিত বিরতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যা পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলেও, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছে। এছাড়া, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো বিষয়গুলো নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি বাংলাদেশের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
